‘খাতায় না লিখলেও একসময় ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়েছে’

রাজশাহীতে বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী
রাজশাহীতে বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী | ছবি: সংগৃহীত
0

একসময় পরীক্ষার খাতায় কিছু না লিখলেও শতকরা ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার এমন পরিস্থিতির কারণেই বর্তমানে তরুণদের হাতে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেও তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞানের চরম অভাব রয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ) বিকেলে রাজশাহী নগরীর কালেক্টরেট মাঠে আয়োজিত নয় দিনব্যাপী রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার মান ও তরুণদের বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবেই দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। আর এই বেকারত্ব ও হতাশার সুযোগ কাজে লাগিয়েই দেশজুড়ে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটানো হয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে জাতীয় বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্যও সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তরুণ প্রজন্মকে আগামী দিনের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, গ্রাম ও শহরের সব শিশুকে এখন থেকেই বই পড়া, নিয়মিত খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এর মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হবে এবং তারা ভবিষ্যতে দক্ষ ও মেধাবী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। আলোচনা সভা শেষে মেলা প্রাঙ্গণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

আয়োজকেরা জানান, রাজশাহীর কালেক্টরেট মাঠে শুরু হওয়া বিভাগীয় বইমেলা চলবে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ সব বয়সী দর্শনার্থী ও বইপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এএম