ফ্রান্সে ফের বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কা; মোতায়েন হচ্ছে ৭০ হাজার পুলিশ

1

জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয়, পাবলিক সার্ভিসের সংকট এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের নীতিমালার প্রতিবাদে ফ্রান্সে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। শনিবার দেশজুড়ে সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

দুসপ্তাহ আগের বিক্ষোভের সময় ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা নিরাপত্তা বাহিনীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শনিবার বিক্ষোভ ঘিরে মারাত্মক ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যাতে হ্যালোউইনের মুখোশ পরে পরিচয় লুকাতে না পারে, সে জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের সরকারি ঋণ বর্তমানে দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় ১২০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে বাজেট ঘাটতি কমাতে তীব্র চাপে রয়েছে ম্যাক্রোঁর সংখ্যালঘু সরকার। জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষের ভিড় নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরাও এবার ট্রেড ইউনিয়ন এবং ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে রাজপথে নেমেছে।

ফ্রান্সের এই অসন্তোষের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও। শনিবার জার্মানির ৩০টিরও বেশি শহরে সংহতি সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। টানা বিক্ষোভের কারণে ফ্রান্সের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির চেম্বার অব কমার্সের হিসাব অনুযায়ী, খুচরা ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ ইতিমধ্যে ১০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দাঙ্গাকারীদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এএম